Auto Ads 1

সুখে থাকার উপায় ও কিভাবে সুখে থাকবেন

সুখে থাকার উপাই

Arian Istiak

ইসলামে ৫০% সুখকে বলা হয় (ভাগ্যে যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা)। এর অর্থ হল ইমানদার হওয়া যদি আমরা সত্যিই আল্লাহকে মন-প্রান দিয়ে ভালবাসি এবং আল্লাহর উপর ভরসা করি। আমাদের জন্য তিনি আল্লাহপাক যা আদেশ করেছেন তা নিয়ে যেন আমরা সন্তুষ্ট থাকি । আমার নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনি আমাদের ভাগ্য নিয়ে কথা বলবেন এবং সন্তুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরবেন ।

"আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে আমার পালনকর্তা হিসাবে পেয়েই এ জীবনে খুশি হয়েছি, আমার ধর্ম হিসাবে ইসলামের সাথে এবং হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর উপর শান্তি ও আশীর্বাদ) আমার নবী হিসাবে পেয়ে আমি খুশী এবং সুখি হয়েছি " [আবু দাউদ]। "হে আল্লাহ্‌, আমাকে যা দিয়েছ তা দিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট করে দাও, আমার উপর রহমত বর্শীত করো, হে আল্লাহ আমার জন্য সকল অনুপস্থিত জিনিসের মধ্যেও  ভাল কিছু রাখো "। [বুখারী]

কে না সুখে থাকতে চায়? আমরা প্রত্যেকেই যার যার মতো ভালো থাকতে বা সুখী হতে চাই, সুখে থাকার মূল চাবিকাঠি রয়েছে নিজের কাছেই। সুখে থাকার জন্য নিজেই নিজের পথটা তৈরি করে নিতে পারেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেঘলা সরকার সুখে থাকার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ।

১. ইতিবাচক ভাবনা ভাবুন

আপনার কাজ আপনি যেভাবে করবেন, সেই কাজের ফলটাও সে রকমই হবে। এমন চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে কাজটি শুরু করে দিন। কাজের শেষে কী হবে খারাপ কিংবা ভাল এমন চিন্তা বাদ দিন। বরঞ্চো নিজেকে পরিপুর্ন আশ্বাস দিন। প্রতিটি কাজেরই দুটি দিক থাকে—নেতিবাচক ও ইতিবাচক । সব সময় চেষ্টা করুন ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করার। ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা রাখলে আর নিজেকে আশ্বাস দিলে এর ভালো দিকটা আপনি নিজেই দেখতে পাবেন।

২. আস্থা রাখুন নিজের ওপর

যত যাই হয়ে যাক না কেনো, নিজেকে বোঝার ক্ষমতা কেবলমাত্র আপনারই আছে। সব নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলুন আর নিজেকে অভয় দিন, এবং ভাবুন ‘দিন শেষে আমিই জয়ী হবো।

৩. নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা আর নয়

পরিক্ষার আগের রাতে ভাবা , আগামীকাল পরীক্ষা আর আজ রাতে আপনার মনে জাগলো হাজারো দুশ্চিন্তা, যার অধিকাংশই নেতিবাচক। এ ধরনের চিন্তা ভাবনা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। নেতিবাচক মানুষগুলো থেকে এবং নেতিবাচক আলোচনা থেকেও দূরে থাকুন । যতোটা সম্ভব বাজে মনমানসিকতার মানুষ থেকে দূরেথাকুন।

৪. কখোনোই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেননা ।

‘অমুকের ওটা আছে, আমার ওটা নেই কেনো’—এ ধরনের চিন্তা ভাবনা মানুষকে তার নিজের মানসিক শক্তিকেই কমিয়ে দেয়। এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা মানুষকে দীর্ঘ মেয়াদে নিজের মধ্যে হতাশা কাজ করে। সবাই সবার থেকে ভিন্ন ধরনের হয় , সবার প্রতিভা এক নয়। কেউ হয়তো খেলাধুলায় ভালো আবার কেউ হয়তো পড়াশোনায়, তাই সবসময় চেষ্টা করুন নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করে সেটা পরিপূর্নতাই রুপ দেয়ার।

৫. খাবার ও ঘুম ঠিক রাখুন

শরীর ও মন একটি আরেকটির সাথে মিশ্রিত একে-অপরের উপর নির্ভরশীল। একটি নির্দিষ্ট রুটিন করে নিন এবং সেই অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। যেমন পরিমিত পরিমাণে খাবার ও ঘুম। এবং প্রতিদিন সকালে কিংবা সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম বা ইয়োগা করলে দুশ্চিন্তা অনেকাংশেই লাঘোব হয়।

৬. নিজেকে ভালবাসতে হবে ।

নিজের প্রতি ভালোবাসতে শিখুন। দিন রাত পরিশ্রমের মাঝেও নিজের জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন এবং নিজের সময়টাকে নিজের মতো করে কাটান এবং নিজের কিছু ভালো কাজ নিয়ে ভাবুন । আপনার প্রিয় মানুষটি সাথে নেই ?এমন সময় নিজেকে একা না ভেবে, আপনি নিজেই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন ! সম্ভব হলে বাইরে কোথাও একটু ঘুরে আসুন  অথবা যে কাজ গুলো করতে আপনার ভালো লাগে সেই কাজের জন্য সময় ব্যয় করুন এবং সেই বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করুন।

৭. পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় উপভোগ

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এবং ভালো কিছু বন্ধুমহলে বসে তাদের সঙ্গে ভালো কিছু দিক নিয়ে আলোচোনা করুন । এমন কিছু বিষয় থাকে , যা আমরা প্রিয় মানুষগুলোর সাথে বলতে পারিনা। সেমন কিছু ব্যাপারে বন্ধুদের সাথে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে অনেকেই। তাই কিছুটা সময় ভালো বন্ধু মানুষটির সঙ্গে ঘুরে আসুন।

৮. কিছু বিষয়কে যেতে দিন

সকল কাজেই যে নিজেকে প্রথম হতে হবে এমন চিন্তা-ভাবনা বাদ দিন। প্রতিটা কাজেই সময় নিয়ে ভালো ভালো ভাবনা ভাবুন এবং মনে করুন, ‘সামনে ভালো কিছু হবেই হবে যার জন্য অপেক্ষা করছেন ।আপনার পরিশ্রমই আপনাকে সফলতা দিবে ।

৯. ধনী,গরিব,সুখী,অসুখী;

ধনী,গরিব,সুখী,অসুখী; বিভিন্ন ধরনের মানুষের বসবাস এই পৃথিবীতে । বর্তমানে সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দুরদর্শী ব্যাপার। সবাই সুখী হতে পারে না। আবার সুখী হতেও পয়সা লাগে না। নিজের মনমানসিকতা ভাল হলে আর নিজের ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই সুখী হওয়া যায়। নিজের যতটুকু আছে ততোটুকুই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে, অল্পের মাঝে আনন্দ খুঁজে পেলে সুখী হওয়া কঠিন কিছু না।

১০. কৃতজ্ঞ থাকুন

দিন শেষে যখন বাসায় ফিরবেন, তখনও চিন্তা করুন আপনি কতটা সফল হতে পেরেছেন। অনেকেই আছেন, হয়তো আপনার জীবনটার মতোই জিবন-যাপন করার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ।

১১. অন্যের প্রতি সহযোগিতা

অনেকেই তার আশে পাশে থাকা মানুষের ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকেন। কিন্তু ভেবে দেখার চেষ্টা করেনা, সেই মানুষটি কেন এমন করেছেন। সেই মানুষটি হয়তো সহানুভূতি থেকেই এমনটি করেছে। তাই সব সময় নিজের ব্যাপারগুলো সার্থপরের মতো না দেখে অন্যদের সমস্যাগুলোও নিজের বিবেক দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন।

বিঃ দ্রঃ ধনবান ব্যক্তি হলেই সুখী হওয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। ছোট কুটিরেই সুখ সাচ্ছ্যন্দে বসবাস করা যায়।

উইকিপিডিয়া তথ্যসূত্রমতে

২০১২ সালে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস এক সমীক্ষা চালান। World Happiness রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত কল্যাণমূলক পদক্ষেপে, প্রাথমিক বিশুদ্ধতম জীবনের মূল্যায়ন এবং মানসিক প্রতিবেদনগুলির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে । World Happiness রিপোর্টে আরও উল্যাখ আছে সুখকে উভয় জীবন মূল্যায়নে করা হয়, যেমন "মূল বিষয় হলো আপনি আপনার জীবনে কতটা সুখী?" এবং মানসিক প্রতিবেদনে, "এখন আপনি কতটা সুখী?

সাধারণভাবে গৃহীত হয় যে, সুখ অন্ততপক্ষে Dopaminergic, adrenergic and serotonergic বিপাকের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করা হয় । হরমোনের মাত্রা এবং সুখের মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে । SSRIs, যেমন Prozac ক্লিনিক্যালভাবে অসুখী কিনা সেরোটোনিকের মাত্রা সমন্বয়ের মাধ্যমে তা যাচাই করা হয় । গবেষকরা, যেমন আলেকজান্ডার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে অনেক লোক মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য হরমোনের মাত্রা সংশোধন করার প্রচেষ্টা করলে ফলাফল হতে পারে বিপরীত।

একটি ইতিবাচক সম্পর্ক মস্তিষ্কের ডান পাশে পূর্ববর্তী এলাকায় ধূসর কিছু উপাদান পাওয়া গেছে যার মাধ্যমে সুখের মাত্রা পরিমাপ করা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে । ধ্যান ভিত্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে লক্ষ্য করা গেছে যে, পূর্ববর্তী এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হারে ধূসর উপাদান বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া যায়।

Post a Comment

1 Comments

  1. সুখের জন্য সবাই চেষ্টা করে,, এই লেখাটি পড়ে একটু ভাল লাগলো

    ReplyDelete

Ads 4